Deri স্বাস্থ্য Archives - kushtiatime24.com https://kushtiatime24.com/?cat=65 সত্য উম্নোচনে আমরাই প্রথম Fri, 08 May 2026 08:34:19 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 কোলেস্টেরলের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক কী? মাপুন ঘরে বসেই https://kushtiatime24.com/?p=37420 Fri, 08 May 2026 07:33:44 +0000 https://kushtiatime24.com/?p=37420 এখন ঘরে বসেই কোলেস্টেরলের মাত্রা মাপা সম্ভব। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে বাজারে কিংবা অনলাইন মাধ্যমে নানা ধরনের কোলেস্টেরল হোম টেস্ট কিট পাওয়া যায়, আপনি চাইলে তা দিয়ে ঘরে বসেই মেপে নিতে পারেন। এতে ঝামেলামুক্ত, নিশ্চিন্ত জীবন। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের […]

The post কোলেস্টেরলের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক কী? মাপুন ঘরে বসেই appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
এখন ঘরে বসেই কোলেস্টেরলের মাত্রা মাপা সম্ভব। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বর্তমানে বাজারে কিংবা অনলাইন মাধ্যমে নানা ধরনের কোলেস্টেরল হোম টেস্ট কিট পাওয়া যায়, আপনি চাইলে তা দিয়ে ঘরে বসেই মেপে নিতে পারেন। এতে ঝামেলামুক্ত, নিশ্চিন্ত জীবন।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়! কোলেস্টেরল বাড়লেই হৃদরোগেরও ঝুঁকি বেড়ে যায়। যার উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে বা পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস আছে, তার চিন্তা আরও বেশি।

কোলেস্টেরল মাঝেমধ্যেই ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যায়। কখন বাড়ছে, তা বোঝার জন্য রক্তপরীক্ষা করতে হয়। কোলেস্টেরল বাড়ছে কিনা, তা বুঝতে হয়। এবার সেই ঝামেলা পোহাতে হবে না। কারণ ঘরে বসে সুগার মাপার মতো যন্ত্র এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। অনলাইনে তা সহজলভ্য।

কোলেস্টেরলের পাল্লা কতটা ভারি, তা দ্রুতই মেপে নিতে পারেন ঘরে বসে। অনলাইনে অর্ডার করলেই এখন হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন। এর দাম ব্র্যান্ডের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত কোলেস্টেরল মিটার বা মাল্টি মনিটরিং সিস্টেমের দাম শুরু হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে। ভালো ব্র্যান্ডের কিনলে দাম পড়বে আট হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাড়িতে কোলেস্টেরল মাপার জন্য ‘মাল্টি-মনিটরিং সিস্টেম’ বা ‘কোলেস্টেরল মিটার’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দেখতে অনেকটা ডায়াবেটিস মাপার গ্লুকোমিটারের যন্ত্রের মতো। এ যন্ত্রগুলো এখন উন্নত সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগও হচ্ছে। এতে এমন এআই চিপ বসানো থাকে, যা রক্তের নমুনা দেখেই বলে দিতে পারে কোলেস্টেরলের মাত্রা কতটা, কী পরিমাণে বেড়েছে ট্রাইগ্লিসারাইড।

শুধু তাই নয়, রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) কতটা কমেছে আর খারাপ (এলডিএল) কতটা বেড়েছে, তার অনুপাতও ঝটপট বলে দিতে পারে।

এমন অনেক কোলেস্টেরল মিটার বেরিয়েছে, যাতে ব্লুটুথ লাগানো থাকে। সেটি আবার ফোনের অ্যাপের সঙ্গে যোগ করা যায়। এর লাভ হলো কোন সময়ে কোলেস্টেরল কী পরিমাণে বাড়ছে বা কমছে, তার রেকর্ড রাখা যায়। এই রেকর্ড দেখে বোঝা যাবে— হৃদরোগের আশঙ্কা আছে কিনা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো রিডিং পাওয়া যাবে। সাধারণত ৯-১২ ঘণ্টা খালি পেটে থাকা ভালো। তাহলে মাপ ঠিকমতো আসবে। যন্ত্রটিতে এআই চিপ বসানো থাকে, আর থাকে কয়েকটি স্ট্রিপের সেট।

সেই স্ট্রিপ মেশিনে ঢোকালেই যন্ত্রটি প্রস্তুত হয়ে যায়। এরপর ঠিক গ্লুকোমিটারের মতো আঙুলের ডগায় ফুটিয়ে রক্ত সেই স্ট্রিপে ফেলতে হবে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মেশিনের স্ক্রিনে কোলেস্টেরল কত, সেই রিডিং ফুটে উঠবে। তবে পরীক্ষাটি করার আগে আঙুল ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

The post কোলেস্টেরলের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক কী? মাপুন ঘরে বসেই appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
পা দেখেই ধরা পড়বে হার্টের বিপদ, যেভাবে বুঝবেন সতর্ক সংকেত https://kushtiatime24.com/?p=37417 Fri, 08 May 2026 07:32:29 +0000 https://kushtiatime24.com/?p=37417 আপনার পা হৃদরোগের আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে। আপনার শরীরের নিচের অংশ বা পায়ে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনেক সময় হার্টের সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোনো চোট ছাড়াই যদি হঠাৎ পায়ের পাতা, গোড়ালি বা লেগ ফুলে যায় এবং টিপ দিলে গর্ত হয়ে থাকে, তবে তা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প […]

The post পা দেখেই ধরা পড়বে হার্টের বিপদ, যেভাবে বুঝবেন সতর্ক সংকেত appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
আপনার পা হৃদরোগের আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে। আপনার শরীরের নিচের অংশ বা পায়ে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনেক সময় হার্টের সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোনো চোট ছাড়াই যদি হঠাৎ পায়ের পাতা, গোড়ালি বা লেগ ফুলে যায় এবং টিপ দিলে গর্ত হয়ে থাকে, তবে তা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়। এ তথ্যগুলো শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবেই কিছু ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে।

তবে পা দেখে সরাসরি হার্টের রোগ ধরা যায় না। কিন্তু পায়ের কিছু লক্ষণ শরীরের রক্ত চলাচলের সমস্যার কথা জানিয়ে দেয়। আর এ সমস্যার সঙ্গে হৃদরোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পা সরাসরি হৃদরোগ ভবিষ্যদ্বাণী করে না, কিন্তু শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই পায়ের যত্ন নিন। আর ছোট লক্ষণকেও গুরুত্ব দিন। তাহলেই বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

আমাদের শরীরের একেবারে নিচে থাকে পা। তাই হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ঠিকমতো পায়ে পৌঁছাতে না পারলে তার প্রভাব সবার আগে এখানেই দেখা যায়। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে যে সমস্যা হয়, তাকে বলে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ। এ রোগ থাকলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

কীভাবে পায়ে লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন, জেনে নিন—

হাঁটার সময় যদি পায়ে টান ধরে বা ব্যথা হয়, একটু হাঁটলেই যদি পা ক্লান্ত লাগে— এসব সাধারণ ক্লান্তি নাও হতে পারে। আবার যদি দেখেন পা সবসময় ঠান্ডা লাগছে, ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যাচ্ছে কিংবা পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব হচ্ছে, তাহলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ পায়ে কোনো কাটা বা ঘা তা অনেক দিন হলেও শুকায় না।

অনেক সময় পা বা গোড়ালি ফুলে যায়। এটাও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। যখন হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন শরীরে পানি জমতে শুরু করে। আর তার প্রভাব পায়ে ফোলার মাধ্যমে দেখা যায়। তাহলে কি শুধু পা দেখেই বুঝে যাবেন— আপনার হার্টে সমস্যা আছে?

না, এত সহজ নয়; তবে পায়ের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে আপনার শরীরের ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে ধরতে পারেন। অনেক সময় বড় রোগের আগেই এ লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটাচলা কিংবা হালকা ব্যায়াম করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে—পায়ে যদি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন, তা অবহেলা করবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

The post পা দেখেই ধরা পড়বে হার্টের বিপদ, যেভাবে বুঝবেন সতর্ক সংকেত appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা https://kushtiatime24.com/?p=37414 Fri, 08 May 2026 07:31:47 +0000 https://kushtiatime24.com/?p=37414 অতীতে হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করতেন বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাঁটু গেড়ে বা উবু হয়ে বসে সন্তান প্রসব করানোর বর্ণনাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, উবু হয়ে বসলে সন্তান প্রসবের রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্তান প্রসব করাটা নারীদের জন্য তুলনামূলক […]

The post সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
অতীতে হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করতেন বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাঁটু গেড়ে বা উবু হয়ে বসে সন্তান প্রসব করানোর বর্ণনাও ইতিহাসে পাওয়া যায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, উবু হয়ে বসলে সন্তান প্রসবের রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্তান প্রসব করাটা নারীদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়।

অন্যদিকে, বিছানায় পিঠ রেখে, তথা চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার যে রীতি এখন ব্যাপবভাবে প্রচলিত রয়েছে, সেটি নারীদের জন্য ‘খুব একটা সুবিধাজনক নয়’ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। কেউ কেউ এটিকে সন্তান প্রসবের ‘বিপজ্জনক’ পদ্ধতি বলেও বর্ণনা করে থাকেন।

কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসবকালে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে নারীদের সন্তান প্রসবের রাস্তা তুলনামূলক ধীরগতিতে প্রশস্ত হয়, যার ফলে প্রসববেদনা দীর্ঘায়িত হয়। সেইসঙ্গে, গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহও ব্যাহত হতে পারে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনকার বেশিরভাগ নারীকে কেন বিছানায় পিঠ দিয়ে শুইয়ে রেখে সন্তান প্রসব করানো হয়? এই পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের প্রচলনই-বা ঘটেছিল কীভাবে?

এসব প্রশ্নের জবাব খুঁতে গিয়ে দেখা যায়, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করানোর বর্তমান রীতির প্রচলন হয়েছিল একজন পুরুষ চিকিৎসকের হাত ধরে। তার নাম ফ্রাঁসোয়া মারিসো, যিনি সপ্তদশ শতকে রাজা চতুর্দশ লুইয়ের শাসনামলে ফ্রান্সে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

ডা. মারিসো দেখেছিলেন, চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে সন্তান প্রসব করানোটা তার জন্য বেশি সুবিধাজনক। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্য দেশগুলোতেও এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

কিন্তু তুলনামূলক দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রসববেদনা সহ্য করতে হওয়ার পরও নারী কিংবা ধাত্রীরা কেন চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের রীতি অনুসরণ করে যাচ্ছেন?

যুক্তরাজ্যের অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যানেট বালাস্কাস বিবিসিকে বলেন, ‘গর্ভবতী নারী এবং পেশাজীবী যারা তাকে সন্তান প্রসবে সহায়তা করে থাকেন, তাদের উভয়ের মধ্যেই প্রসবকালীন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ অজ্ঞতা রয়েছে’।

‘জটিল ও ব্যয়বহুল’ পদ্ধতি
পশ্চিমা শিল্পোন্নত দেশগুলোসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে সন্তান প্রসবের জন্য নারীকে হাসপাতালের বিছানায় চিৎ শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় বলে জানান জ্যানেট বালাস্কাস। তার ভাষায়, ‘এটি একটি অযৌক্তিক প্রথা, যা সন্তান প্রসবের মতো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অহেতুক জটিল এবং ব্যয়বহুল করে তোলে।’

প্রচলিত এই পদ্ধতিতে প্রসূতি নারীকে ‘একজন নিষ্ক্রিয় রোগীতে’ পরিণত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোনো প্রজাতির প্রাণীকে সন্তান প্রসবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অসুবিধাজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।’ বালাস্কাসের এই মতামতের সঙ্গে অন্য বিশেষজ্ঞরাও একমত পোষণ করেছেন।

‘দ্য কনভারসেশনে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক হান্না ডাহলেন লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে আধুনিককালের একটি ঘটনা, কয়েকশ’ বছর আগেও এভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া হতো না’।

বালাস্কাস সন্তান প্রসবের ওপর একাধিক বই লিখেছেন, যেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘অ্যাক্টিভ বার্থ ম্যানিফেস্টো’।

১৯৮২ সালে প্রকাশ ওই বইতে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীজুড়ে হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা উবু হয়ে বসাসহ নানানভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। জাতি বা সংস্কৃতি যাই হোক না কেন…ওইসব সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিগুলোই (সন্তান প্রসবের ক্ষেত্র) প্রাধান্য পেয়ে এসেছে।’

বইয়ের এই বক্তব্যকে নিজেদের মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বালাস্কাসের প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টার’।

ফ্রান্সের রাজার উৎসাহ
গবেষকরা বলছেন, মানব সভ্যতার হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের মধ্যে মাত্র তিনশ থেকে চারশ বছরে আগে চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার রীতি চালু হয়। এর প্রবর্তক ডা. ফ্রাঁসোয়া মারিসো দাবি করতেন, দাঁড়িয়ে বা বসে সন্তান প্রসবের তুলনায় শুয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াটা নারীদের জন্য বেশি আরামদায়ক। যে চিকিৎসক প্রসূতি নারীকে সহায়তা করেন, এটি তার জন্যও অধিক সুবিধাজনক বলে মনে করতেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রচীনকাল থেকেই সাধারণ ধাত্রীরা প্রসূতি নারীদের সন্তান প্রসবে সহায়তা করে আসতেন। কিন্তু সপ্তদশ শতকের দিকে তাদের বাদ দিয়ে সেই জায়গায় প্রসূতি নারীর পাশে একজন শল্যচিকিৎসক উপস্থিত রাখার রীতি চালু হয়েছিল, যারা প্রায় সবাই ছিলেন পুরুষ। ফলে ওই পুরুষ চিকিৎসকরা তাদের নিজেদের সুবিধার্থে নারীদের চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের পদ্ধতির প্রচলন ঘটান।

ডা. মারিসো গর্ভাবস্থাকে একটি ‘অসুস্থতা’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ১৬৬৮ সালে প্রকাশিত তার ‘দ্য ডিজিজেজ অব উইমেন উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ইন চাইল্ড-বেড’ গ্রন্থে ডা. মারিসো লিখেছেন, ‘সন্তান প্রসবের সবচেয়ে ভালো ও নিশ্চিত উপায় হলো বিছানায় শুয়ে প্রসব করা। এক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানের পরে নারীদের নতুন করে বিছানায় নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়।’

তবে গবেষকদের কারো কারো মতে, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের যে রীতির প্রবর্তন ডা. মারিসো ঘটিয়েছিলেন, সেটির পেছনে প্রভাব করেছিলেন ফ্রান্সের তৎকালীন শাসক রাজা চতুর্দশ লুই।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ম্যাকড্যানিয়েল কলেজের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক লরেন ডান্ডেস নারীদের সন্তান প্রসবের বিভিন্ন পদ্ধতির বিবর্তনের ওপর গবেষণা করেছেন।

১৯৮৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘কথিত আছে যে, রাজা চতুর্দশ লুই নারীদের (তার স্ত্রীদের) সন্তান প্রসবের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করতেন। কিন্তু তখন বিশেষ চেয়ারে বসিয়ে সন্তান প্রসব করানো হতো, তাতে সন্তান প্রসবের দৃশ্যটি পরিষ্কারভাবে না দেখা যাওয়ায় রাজা হতাশ হতেন। সেজন্য তিনি হেলান দিয়ে সন্তান প্রসব করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।’ তবে রাজা চতুর্দশ লুইয়ের এই উৎসাহ তখন সাধারণ মানুষকে ঠিক কতটা প্রভাবিত করেছিল, সেটি পরিষ্কার নয়।

অধ্যাপক ডান্ডেস লিখেছেন, ‘রাজার নীতি কতটা প্রভাব রেখেছিল, সেটি পরিষ্কারভাবে জানা যায় না। তবে রাজপরিবারের যে কোনো সিদ্ধান্ত বা আচরণ সাধারণ প্রজাদের ওপর কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে থাকে’ ।

তিনি মনে করেন, রাজা চতুর্দশ লুইয়ের উৎসাহ নারীদের মধ্যে চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের রীতি চালুর ক্ষেত্রে ‘সহায়ক প্রভাবক’ হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।

তবে রীতিটি যেভাবেই চালু হোক না কেন, পরবর্তীতে তা একটি স্থায়ী রূপ পায় এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রীতিটি প্রসূতি নারীদের জন্য খুব একটা কল্যাণকর নয়, বরং ক্ষতির কারণ।

বিবিসিকে জ্যানেট বালাস্কাস আরও বলেন, ‘প্রচলিত রীতিতে সন্তান প্রসবের প্রক্রিয়াটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, যার ফলে আগের মতো বাড়িতে সন্তান প্রসব করানোর মতো বিকল্পগুলো, যা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক এবং প্রসূতি নারীদের অনেকের জন্য বেশি সুবিধাজনক, সেটি হ্রাস পাচ্ছে’।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা যে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে সন্তান প্রসব করে আসছিলেন, সেটার মূল কারণ ‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তি’। সন্তান জন্মদানের সময় নবজাতককে প্রসবনালীর মধ্য দিয়ে বের করতে হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মের সময় নারীদের তাদের ইচ্ছামতো ভঙ্গি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে তারা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং উবু হয়ে বসেন।

এক্ষেত্রে তারা হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া বা নিচু চেয়ার বা অন্য কোনো আসবাবপত্রে হেলান দেওয়ার মতো ভঙ্গিগুলো অবলম্বন করেন।

২০১৩ সালে পাঁচ হাজারেরও বেশি জন নারীর ওপর পরিচালিত ২৫টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বের হয়েছিল।

সেখানে বলা হয়েছে, যেসব নারী বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার পরিবর্তে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসার ভঙ্গিতে সন্তান প্রসব করেন, অন্যদের সঙ্গে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

যেমন- তাদের মধ্যে সিজার করে সন্তান প্রসবের ঝুঁকি কমে যায়, ব্যথা উপশমের জন্য এপিডুরালের ব্যবহার, তথা ওষুধ খুব একটা লাগে না। এছাড়া তারা যেসব শিশুদের জন্ম দেয়, তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

সেইসঙ্গে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে সন্তান জন্ম নেওয়ায় নারীদের প্রসবযন্ত্রণাও কম ভোগ করতে হয়। তবে পর্যালোচনাটিতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর’ নারীদের জন্য এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করলে অনেকসময় মায়ের রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক হান্না ডাহলেন ২০১৩ সালে প্রকাশিত নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করানোটা প্রসূতি মা ও তার শিশু- উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক।’

দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করলেও মায়ের তুলনামূলক কম ব্যথা পান, জরায়ুতে থাকা অবস্থায় শিশু ভালোমত অক্সিজেন পায় এবং সন্তান জন্মের জটিলতা তুলনামূলক কম হয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

অধ্যাপক ডাহলেন ও তার সহকর্মীরা ২০১১ সালে প্রসূতি নারীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রসবকালীন পরিবেশ নারীদেরকে প্রসবের ভঙ্গি বা অবস্থানকে প্রভাবিত করে কি-না, সেটা দেখাই ছিল ওই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য।

সেখানে গবেষকরা দু’টি ভিন্ন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমটি ছিল এমন একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানের জন্য পিঁড়ি, বল এবং বসার জন্য বিন ব্যাগের মতো সহায়ক সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল।

আরেকটি ছিল হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ড, যেখানে সাধারণ একটি বিছানাই ছিল একমাত্র বিকল্প।

গবেষণাটির ফলাফলে দেখা যায়, হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডের তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রসূতিদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সোজা হয়ে বসার প্রবণতা অনেক বেশি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৮২ শতাংশ নারী সোজা হয়ে বসেন, যেখানে হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই হার ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ।

‘অ্যাক্টিভ বার্থ’
বিছানায় শুইয়ে সন্তান প্রসবের কারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনেক দেশে সি-সেকশন বা সিজার করার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। এক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের পুরনো রীতি ফিরিয়ে আনার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। রীতিটি পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ নামে পরিচিত।

যুক্তরাজ্যের অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যানেট বালাস্কাস বলছিলেন, উন্নত অনেক দেশে এখন ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ বা সক্রিয় প্রসবের ধারণা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ হচ্ছে সন্তান প্রসবের এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে বাচ্চা হওয়ার সময় প্রসূতি মা’কে জোর করে বিছানায় শুইয়ে না রেখে, সেটার পরিবর্তে স্বাধীন ও স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করার এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবার বা উবু হয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়।

বালাস্কাস বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ বা সক্রিয় প্রসব ধারণাটি প্রসূতি সেবায় পরিবর্তন এনেছে। যেমন-হাসপাতালের বিকল্প হিসেবে ধাত্রী পরিচালিত প্রসব কেন্দ্র তৈরি হয়েছে’।

সক্রিয়ভাবে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে প্রসূতি মা’কে কক্ষের ভেতর স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা এবং প্রয়োজনে পিঁড়ি বা চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, যা সাধারণত হাসপাতালে দেখা যায় না।

বালাস্কাস আরও বলেন, ‘পঞ্চাশ বছর আগেও এই ধরনের প্রসব কেন্দ্রের অস্তিত্ব চোখে পড়তো না’।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্সে’র (নাইস) নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রসবযন্ত্রণা শুরু হওয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রসূতিকে চিৎ বা অর্ধ-চিৎ হয়ে শুতে নিরুৎসাহিত করা উচিত। এর পরিবর্তে তাদের জন্য আরামদায়ক অন্য কোনো ভঙ্গি বা অবস্থান গ্রহণে উৎসাহ দিতে বলা হয়েছে।

‘জ্ঞানই শক্তি’
জ্ঞানই যেহেতু শক্তি, সেজন্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, নারীরা তাদের প্রসব সংক্রান্ত বিকল্পগুলো সম্পর্কে যত বেশি অবগত ও সচেতন হবেন, তত বেশি তারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত ও তুলনামূলক আরামদায়ক পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।

বিবিসিকে কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার শিক্ষক আইলিন হাটন বলেন, ‘প্রসবকালীন বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে জনসচেতনতা সবসময়ই উপকারী’।

সন্তান জন্মদানের ওপর একাধিক গবেষণাপত্রও প্রকাশ করা এই শিক্ষক অতীতে ধাত্রী হিসেবে কাজও করেছেন।

আইলিন বলেন, ‘জনপ্রিয় সাহিত্য, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে সন্তান প্রসবের চিত্রায়ণের দিকে তাকালেই সহজে বোঝা যাবে, কীভাবে প্রসব প্রক্রিয়াকে মানুষের সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। এখন নতুন করে সঠিকভাবে বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরে জনসচেতনা বাড়ানোর বিকল্প নেই’।

The post সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
দেশে আক্রান্ত রোগী ৭০ হাজারের বেশি https://kushtiatime24.com/?p=37270 Fri, 08 May 2026 06:18:01 +0000 https://kushtiatime24.com/?p=37270 দেশে বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া রোগী দিনদিন বাড়ছে। ৮ বছরে বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। প্রতিবছর ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে ৭০ হাজারের বেশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সারা বিশ্বের মতো আজ দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘আর নয় আড়ালে : শনাক্ত […]

The post দেশে আক্রান্ত রোগী ৭০ হাজারের বেশি appeared first on kushtiatime24.com.

]]>
দেশে বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া রোগী দিনদিন বাড়ছে। ৮ বছরে বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। প্রতিবছর ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে ৭০ হাজারের বেশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সারা বিশ্বের মতো আজ দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘আর নয় আড়ালে : শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের’।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। রক্তরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানবকোষে রক্ত তৈরি করার জন্য দুটি জিন থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্ত তৈরির একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসেমিয়া বাহক বলে। আর দুটি জিনেই ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসেমিয়া রোগী বলে। তবে সব বাহকই রোগী না। শিশু জন্মের এক থেকে দুই বছরের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের লক্ষণগুলো হলো-ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘনঘন রোগ সংক্রমণ, শিশুর ওজন না বাড়া, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মমতাজ জাহান কলি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত রোগী ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন। ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৯৮ জন, ২০২০ সালে ৩ হাজার ৪১৬ জন, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৯৪১ জন, ২০২২ সালে ৬ হাজার ৫৫ জন, ২০২৩ সালে ছিল ৭ হাজার ২২ জন এবং ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৫১১ জন। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৪৬ জন রোগী পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। যাদের চিকিৎসায় বছরে ৩৬ হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মাত্র ১৮ শতাংশের জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। একজন রোগীর চিকিৎসা বাবদ মাসে কমপক্ষে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়।

বিশ্বের ১.৫ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া বহন করছে। অর্থাৎ ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষ এই রোগের বাহক। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব ৩ থেকে ১০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা মোট জনসংখ্যার ১১.৪ শতাংশ। ২০১৪-১৫ সালে বাংলাদেশে ৭ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক ছিল। গ্রামাঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ার বাহক ১১.৬ এবং শহরে ১১.০ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রংপুরে ২৭.৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহীতে ১১.৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রামে ১১.২ শতাংশ। এছাড়া ময়মনসিংহে ৯.৮, খুলনায় ৮.৬, ঢাকায় ৮.৬, বরিশালে ৭.৩ এবং সিলেটে সবচেয়ে কম ৪.৮ শতাংশ। ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই বাহক রয়েছে ১১.৯ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের ১২ শতাংশ, ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের ১০.৩ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ১১.৩ শতাংশ। ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক আরেকজন বাহককে বিয়ে করলেই শিশু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শনাক্তকরণের পদ্ধতিটাই এখন ভুলভাবে হচ্ছে। রোগটি নির্ণয়ের টেস্ট যদি এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার সময় বাধ্যতামূলক বা উৎসাহ দিয়ে করা যায়, অথবা প্রসূতি নারীদের এন্টিনেটাল কেয়ারের (এএনসি) সময় মা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, সেটা জানা যাবে।

তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু হচ্ছে অটোলোগাস, অর্থাৎ আক্রান্ত নিজেরই বোনম্যারো দিয়ে নিজেরটা সারানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ট্রান্সপ্লান্টের মূল সাফল্য হলো এলোজেনিক ট্রান্সপ্লান্ট, সেটা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে করতে পারিনি। এই ধরনের রোগীর আসলে বেঁচে থাকার সুযোগ কম। একই সঙ্গে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু সরকারি হাসপাতালে ডে-কেয়ার ভিত্তিতে ট্রান্সমিশন নিতে পারে। সেবা দেওয়া হয় দিনে। ফলে এসব শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। সরকারি ডে-কেয়ারে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ট্রান্সফিউশন সেবা রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য। বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করে সাইপ্রাস, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশ থ্যালাসেমিয়া রোগী প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা পেলে থ্যালাসেমিয়া রোগী সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এদিকে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন মালিবাগ কার্যালয়ে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, মেডিকেলের হেমাটোলজি বিভাগসহ বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবে।

The post দেশে আক্রান্ত রোগী ৭০ হাজারের বেশি appeared first on kushtiatime24.com.

]]>