Deri

পার্লার নয়, ঘরে বসেই চুলে স্পা করুন

প্রকাশিতঃ মে ৮, ২০২৬ | ১:২৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ঘন ঘন শ্যাম্পু করেও চুলকে কোমল ও ধুলামুক্ত রাখা যায় না। তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতা। ঘাম, ধুলো ও ময়লার সঙ্গে ঝুঁকতে হচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তে। এমন সময়ে স্পা করালে চুল ভালো থাকে বটে, কিন্তু পার্লারে গিয়ে বারবার কেশচর্চা করানোর সামর্থ্য সবার থাকে না। সে ক্ষেত্রে বাড়িতেই চুলে স্পা করানো সম্ভব। এতে প্রবল গরমেও আপনার কেশরাশি থাকবে কোমল ও উজ্জ্বল। সে কারণে পার্লারে না গিয়ে ঘরেই কম খরচে সহজ কয়েকটি ধাপে চুলের ডিপ কন্ডিশনিং কিংবা হেয়ার স্পা করে চুল কোমল ও উজ্জ্বল করুন। তেল ম্যাসাজ, গরম তোয়ালের সেঁক, শ্যাম্পু, হেয়ার মাস্ক এবং কন্ডিশনিং—এসব কয়েকটি স্তরে মাসে ১-২ বার স্পা করলে আপনার চুল রুক্ষতা ও খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পার্লারে না গিয়ে কীভাবে ঘরে বসেই প্রফেশনাল হেয়ার স্পা করবেন— ১. তেল মালিশ হেয়ার স্পার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো— তেল মালিশ। আপনি নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা বাদাম তেল হালকা গরম করে নিন। এরপর গরম করে মাথার ত্বকে ও চুলে ১০-১৫ মিনিট ভালো করে ম্যাসাজ করুন। গোটা প্রক্রিয়ার ভিত বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ নারিকেল তেল কিংবা বাদাম তেল অথবা আর্গন অয়েল একটু গরম করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে দিলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং মাথার ত্বক পুষ্টি পায়। ২. ভাপ দেওয়া একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে বাড়তি পানি নিংড়ে নিন। এবার গরম তোয়ালেটি চুলে জড়িয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এতে চুলের রোমকূপ খুলে যায় এবং তেল গভীরে পৌঁছায়। আর চুলে গরম পানি দিয়ে এই তাপ চুলের কিউটিকলগুলোকে খুলে দেয়। ফলে তেল ভেতরে প্রবেশ করে চুলকে পুষ্ট করতে পারে। তোয়ালে ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার গরম পানিতে চুবিয়ে মাথায় মুড়িয়ে নিতে হবে। ৩. শ্যাম্পু এরপর কোনো সালফেট-মুক্ত বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন যেন মাথার ত্বকে কোনো তেলের আঠালো ভাব না থাকে। ধোয়ার সময় ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা ধুলে চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই সামান্য গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। মাথা পরিষ্কারও হবে, আবার আর্দ্রতাও নষ্ট হবে না। এই ধাপে একেবারই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। ৪. হেয়ার মাস্ক এটি স্পার সবচেয়ে জরুরি ধাপ। ঘরে তৈরি মাস্ক (যেমন— কলা ও মধুর মিশ্রণ বা টকদই ও ডিম) অথবা কেনা হেয়ার স্পা ক্রিম চুলে লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। ৫. কন্ডিশনিং সবশেষে সাধারণ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাস্ক ব্যবহারের পর আলাদা করে কন্ডিশনার না দিলেও চলে। তবে চুল খুব রুক্ষ হলে হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করে ধুয়ে নিন। সবশেষে সিরাম লাগিয়ে চুল শুকিয়ে নিন। মাসে অন্তত দুবার এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার চুল হবে সিল্কি, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক প্রয়োগ করতে হবে চুলে। আর চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত মেখে নিতে হবে মাস্ক। যদি হাতের কাছে বাজারজাত মাস্ক না থাকে, তাহলে ঘরোয়া মাস্কেও কাজ হতে পারে। কলা ও মধু পিষে নিয়ে বা অ্যালোভেরা ও নারিকেল তেল মিশিয়ে মেখে নিতে পারেন মাথায়। ২০-৩০ মিনিট রেখে মাথা ধুয়ে নিন। এতে চুলে শুষ্কতা কমে, চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।