ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিতঃ জুন ৪, ২০২৬ | ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

কুষ্টিয়া টাইম :সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আপা ডেকে ক্ষমা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক অভিজাত মিষ্টির শো-রুম কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মিষ্টির শো-রুমে জরিমানা করায় ওই কর্মচারীকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে তার চাকরি বহাল রাখা হলেও তাকে শো-রুম থেকে কারখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বালাগঞ্জের ইউএনও তাজপুর বাজারস্থ বনফুল শো-রুম থেকে মিষ্টি কিনে নেন। বাসায় নেওয়ার পর তিনি দেখতে পান মিষ্টিগুলো পুরাতন। পরে বিষয়টি তিনি ওসমানীনগরের ইউএনওকে জানান। ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ওসমানীনগর ইউএনও একা সাধারণ ক্রেতা হিসেবে তাজপুর বাজারের বনফুল শো-রুমে যান। এ সময় তিনি কর্মচারী মান্নানকে জিজ্ঞেস করেন, এই মিষ্টিগুলো কি নতুন? কর্মচারী মান্নান জানান, ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের এবং নরমাল মিষ্টিগুলো আজকের। এরপর ইউএনও বলেন, তোমরা মানুষকে বাসি মিষ্টি দাও, আমার কাছে অভিযোগ আছে। তখন কর্মচারী মান্নান বিষয়টি ম্যানেজারকে জানাতে বলেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘তুমি বেয়াদবি করছো, চেনো আমি কে? আমি ইউএনও, আমি তোমাকে জেলে দেবো!’ এ কথা শুনে কর্মচারী মান্নান ভয়ে শো-রুম থেকে চলে যান। পরে শো-রুমের প্রধান ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া এসে বিষয়টি জেনে ইউএনওকে শান্ত করেন এবং কর্মচারী মান্নানকে আনতে বাসায় লোক পাঠান। বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি মসজিদে নামাজে গেছেন। পরে তাকে মসজিদে খবর পাঠানো হয়। এ সময় সহকারী ম্যানেজার ক্যাশ টেবিলে চেয়ারে বসে কথা বলছিলেন। তখন ইউএনও রেগে গিয়ে প্রধান ম্যানেজারকে বলেন, ‘এইটাও বেয়াদব, চেয়ারে বসে কথা বলছে।’ এরপর ম্যানেজার ইউএনওর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে কর্মচারী মান্নানকে আনা হলে ম্যানেজার তাকে ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। মান্নান তখন বলেন,‘ আপা, ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করে দেন।’ এতে ইউএনও আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ডেকে মান্নানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিষয়টি বনফুল কর্তৃপক্ষ জানার পর মান্নানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সোমবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উপজেলা পরিষদে এলে কর্মচারী মান্নান তার দ্বারস্থ হন। পরে এমপি লুনা তার চাকরি বহাল রাখতে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে বনফুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেন। বর্তমানে মান্নানকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় বনফুলের কারখানায় বদলি করা হয়েছে। বনফুল শো-রুম কর্মচারী মান্নান জানান, তিনি সাধারণ ক্রেতা হিসেবে শো-রুমে এসে মিষ্টিগুলো বাসি কি না জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ড্রাই মিষ্টি এক-দুই দিন আগের এবং নরমাল মিষ্টি নতুন। পরে ইউএনও অভিযোগ করেন, বাসি মিষ্টি দেওয়া হয়েছে এবং তার কাছে আরও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি ক্যাশে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও তাকে জেল দেওয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি ভয়ে পালিয়ে যান। পরে ম্যানেজারের নির্দেশে ক্ষমা চাইতে গিয়ে তিনি ‘আপা আমাকে ক্ষমা করে দেন বলেন। এতে ইউএনও আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বলে দাবি করেন তিনি। ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া বলেন, কর্মচারী মান্নান ইউএনওকে না চিনে গুরুত্ব দেয়নি। তাই তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। পরে তিনি ‘আপা ক্ষমা করে দেন’ বলেন। এরপরই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাসি মিষ্টি বিক্রি বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে, ড্রাই মিষ্টি এক-দুই দিন আগের থাকতে পারে এবং নরমাল মিষ্টি সাধারণত নতুন থাকে। গরমে কোনো পণ্য নষ্ট হলে তা সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে দেওয়া হয়। ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে গিয়েছিলেন। এমপি উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি বা আমার কোনো স্টাফ হয়তো মিষ্টি কিনতে পারি। ওসমানীনগর ইউএনও আমার সহকর্মী। তিনি আপা ডাকার জন্য জরিমানা করতে পারেন না। হয়তো ক্রেতা হিসেবে গিয়ে কোনো সমস্যা পেয়ে জরিমানা করেছেন। বিচারকার্য পরিচালনার সময় পক্ষপাত এড়াতে ইউএনও বলাই ভালো।’ এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সরকারি মোবাইল নম্বরে, হোয়াটসঅ্যাপে ও টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জানা নেই। জেনে বলতে হবে।’ সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে জানি না। তিনি কেন এটি করেছেন, সেটি জানতে হবে।’