ভয়ংকর ৯ অনলাইন ফাঁদ থেকে বাঁচবেন যেভাবে
অনলাইন নিউজ ডেক্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর শুধু যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি প্রতারকদের জন্যও বড় একটি শিকার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতারণায় মানুষ ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ধরনও বদলে গেছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে মানুষের ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে তৈরি করা হচ্ছে ডিপফেক। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা পরিচিতজন সেজে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে।তাই অনলাইনে যেকোনো বার্তা, অফার বা লিংকে ক্লিক করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ৯ ধরনের প্রতারণা ও সেগুলো থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো—১. ফিশিং প্রতারণাঅপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ হতে পারে। এসব লিংক আপনাকে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। তাই কোনো লিংক খোলার আগে ওয়েব ঠিকানাটি ভালোভাবে যাচাই করুন।২. প্রেমের ফাঁদ বা রোমান্স স্ক্যামঅনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অনেক প্রতারক পরে অর্থ সাহায্য চায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো— অনলাইনে পরিচিত অপরিচিত কাউকে কখনোই টাকা পাঠাবেন না এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।৩. ভুয়া চাকরির অফার‘অল্প কাজ, বেশি বেতন’— এ ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন এখন সামাজিক মাধ্যমে খুবই সাধারণ। চাকরির আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করা জরুরি। কারণ অনেক প্রতারক চাকরির নামে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পরিচয় চুরি করে থাকে।৪. ভুয়া অনলাইন শপিংঈদ, পূজা, ক্রিসমাসসহ বিভিন্ন উৎসব মৌসুমে ভুয়া ই-কমার্স সাইটের সংখ্যা বেড়ে যায়। কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে তারা ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নেয়। তাই অপরিচিত বা অবিশ্বস্ত সাইট থেকে কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন।৫. কুইজ ও গেম প্রতারণা‘আপনার ভবিষ্যৎ কেমন?’ কিংবা ‘আপনার প্রিয় রং কী?’— এ ধরনের কুইজ অনেক সময় নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহের ফাঁদ হতে পারে। এসব কুইজে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।৬. ভুয়া দাতব্য সংস্থাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে অনেক প্রতারক ভুয়া তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালায়। অনুদান দেওয়ার আগে সংগঠন বা ফান্ডরেইজারের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।৭. বিনিয়োগ প্রতারণা‘স্বল্প বিনিয়োগে বিশাল লাভ’— এ ধরনের প্রলোভন সাধারণত প্রতারণারই ইঙ্গিত দেয়। অপরিচিত কারও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আগে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করুন।৮. ব্র্যান্ড সহযোগিতার ভুয়া প্রস্তাববিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সারদের লক্ষ্য করে অনেক ভুয়া ব্র্যান্ড সহযোগিতার বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তায় থাকা লিংক ফিশিংয়ের মাধ্যম হতে পারে। তাই কোনও চুক্তির আগে ভিডিও কলে পরিচয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।৯. ফলোয়ার ও লাইক বিক্রির ফাঁদঅল্প টাকায় হাজার হাজার ফলোয়ার বা লাইক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক প্রতারক ব্যাংক বা কার্ড তথ্য চুরি করে। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়াতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ উপায় অনুসরণ করাই ভালো।কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদ রাখতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—> অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস ‘প্রাইভেট’ করুন> শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন> অপরিচিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না> সন্দেহজনক লিংক ও বার্তা এড়িয়ে চলুন> নিয়মিত নিজের নাম সার্চ করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট আছে কি না দেখুন> অপ্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপ সরিয়ে ফেলুনবিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে নিজের সব তথ্য প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। জন্মতারিখ, ঠিকানা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখলে প্রতারকদের জন্য আপনাকে টার্গেট করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে অনলাইন নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। কারণ আপনি সামাজিক মাধ্যমে যা শেয়ার করছেন, তা কে দেখছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে— তা সবসময় আপনার জানা সম্ভব নয়।
